রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হিজবুল্লাহর অর্থের জোগান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

হিজবুল্লাহর অর্থের জোগান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

ফাইল ছবি

হিজবুল্লাহর অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১০ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সংগঠন হিসেবে নতুন করে চিহ্নিত করেছে দেশটির প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তে লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি সংগঠিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ এক দেশ থেকে অন্য দেশে সরিয়ে হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কাজে বাণিজ্যিক বিমানে যাতায়াতকারী অর্থ বহনকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ স্থানান্তর করা হতো। এর ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে হিজবুল্লাহর কাছে বিদেশি মুদ্রা পৌঁছানো এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতো বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর আর্থিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সংগঠনটির সঙ্গে ইরানের কুদস বাহিনীর সম্পর্ককেও সামনে আনতে চাইছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের বাইরে বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনায় হিজবুল্লাহ কুদস বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হিজবুল্লাহকে শুধু লেবাননভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখলে এর সামরিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। সংগঠনটির রাজনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সশস্ত্র শাখাও রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর সামরিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডকে ইরানের কুদস বাহিনীর সঙ্গে আরও সরাসরি সম্পৃক্ত হিসেবে তুলে ধরেছে মার্কিন প্রশাসন।

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন এই ব্যবস্থা এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হিজবুল্লাহর অর্থায়ন ও ইরানের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানও আরও স্পষ্ট হলো।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!