প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি সম্পর্কে জয়শঙ্করের কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক কোন নীতির ওপর এগিয়ে যাওয়া উচিত, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কার্যকর ও স্থায়ী হতে হলে সেটিকে উভয় দেশের স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। একটি দেশের স্বার্থকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক পরিচালিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো শুধু ভারতের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে—এমন প্রত্যাশা তিনি করেন না। একইভাবে ভারতও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে চায়। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভারসাম্যকে সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এর আগে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলেও জয়শঙ্কর প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত, অবস্থান বা সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা জানাননি। বরং তিনি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নীতিগত বিষয়গুলোতেই জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার জায়গা তৈরি হলে এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তি গড়ে উঠলে সম্পর্ক আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো পারস্পরিক স্বার্থ ও একে অপরের স্বার্থের প্রতি সম্মান।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্যের ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো সরাসরি সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।



