প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ভয়াবহভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৩টি জাহাজ পার হয়েছে। পরদিন রোববার এই সংখ্যা আরও কমে চারটিতে নেমে আসে। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যত স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সাত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৮৯টি জাহাজ বাইরে বের হয়েছে এবং ১০৩টি জাহাজ ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলাচলের হার দ্রুত কমে এসেছে।
পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ইরাক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বাসরা বন্দর থেকে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে বাসরা বন্দর দিয়ে ইরাকের দৈনিক গড় তেল রপ্তানি প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। অথচ সংঘাতের আগে এই বন্দর থেকে প্রতিদিন ৩৩ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করা হতো।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে বাগদাদ। তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেল পরিবহনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিকল্প এই ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত পাইপলাইন নির্মাণে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে অন্তত ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



