প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ইউক্রেনকে বেছে নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও জোরালো করার বার্তা দিতেই তাঁর এই আকস্মিক সফর বলে জানা গেছে।
সোমবার ইউক্রেনের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী কিয়েভে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের হুমকি এলেও ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আসন্ন শীতের আগে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন বার্নহাম। তিনি ইউক্রেনীয় জনগণের সাহস ও প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেন, ইউক্রেন শুধু নিজের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য লড়ছে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার জন্যও কাজ করে যাবে যুক্তরাজ্য। ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার হুমকির কারণে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। ইউক্রেনের প্রতিরোধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রিটেনের লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামের মিলের কথাও তুলে ধরেন।
বার্নহাম আরও বলেন, ইউক্রেন ইউরোপের জন্য কোনো বোঝা নয়। বরং যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির জনগণ ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় সম্মুখসারিতে অবস্থান করছে।
স্বাধীনতা দিবসে ইউক্রেনের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সাহস ও আত্মত্যাগের জন্য ইউক্রেনবাসী শুধু আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই নয়, আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সম্মানেরও দাবিদার।



