রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র হামলা, নিহত ৪৭

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র হামলা, নিহত ৪৭

সংগৃহীত

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। রাতভর চলা এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীর প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা কেন্সকফে স্থানীয় সময় রোববার রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইতিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতাহতের এ তথ্য জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একের পর এক সশস্ত্র হামলা হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হামলার স্থান থেকে পুলিশের একটি অবস্থান খুব বেশি দূরে না হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

কেন্সকফ এলাকায় গত বছর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে জাতিসংঘের হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭ জনে দাঁড়ায়। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ছে। রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের কাছেই এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮০৪ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে হাইতি। দেশটি আধুনিক বিশ্বের প্রথম স্বাধীন কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতায় দেশটির সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!