প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:২০ এএম
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তবে ইরান কিংবা জোটের তিন সদস্য দেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্ট-সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যমের প্রধান মেহেদী রহিমির বরাতে জানা গেছে, তেহরান ওই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে ইরান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে এমন নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে আসছে।
এর আগে ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে সামরিক জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করলেও জানিয়েছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। জোটের আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জোটের সদস্যরা ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সামরিক পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশকে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকেও জোটটি নিয়ে আপাতত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এর আগে বলেছিলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ ধরনের উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে ইরানকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আমন্ত্রণের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে জোটটির ভবিষ্যৎ পরিধি ও রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।



