প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভিসা সেবার নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতদিন চলবে এবং নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ কবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
এদিকে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের অনেককেই ই-মেইলের মাধ্যমে সময়সূচি পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। তাদের নতুন তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও ব্যাপকভাবে যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা শনাক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার প্রশাসন। অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও বেড়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মতাদর্শ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ও কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত কড়াকড়ির ফলে বৈষম্য ও হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও স্বার্থ রক্ষা করা। তবে এসব নীতির কয়েকটি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াইও চলছে।
ফলে বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ভ্রমণ ও অভিবাসন পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।



