প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
পূর্ব লন্ডনের একটি ভবন, যেখানে একসময় মদ্যপান ও আড্ডার আয়োজন ছিল, সেটি এখন মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি কিনে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। তিনি চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। তবে এর পুরো অর্থ জিয়া বিন রাসেল নিজে বহন করেছেন কি না এবং সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য কত—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব তথ্যকে দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ভবনটিতে আজান ও কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি জামাতে নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মসজিদের পাশাপাশি এটিকে মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিয়া বিন রাসেলের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি অবশ্য শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাভারের নবীনগরে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যেও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেলাই মেশিনসহ আয়মুখী উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে নারীদের নিজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের তথ্যও প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মক্তব ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহায়তা, এতিম ও দরিদ্র শিশুদের পড়াশোনায় সহযোগিতা এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে অনুদানের কথাও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দেশের বাইরে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের জন্যও সহায়তার কথা বলা হয়েছে। গাজা ও সুদানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছেও খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জিয়া বিন রাসেলের সম্পৃক্ততার কথা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাউজান থেকে লন্ডন—ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে জিয়া বিন রাসেলের উদ্যোগটি আলোচনায় এসেছে। তবে ব্যক্তিগত অনুদানের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা সম্পত্তির প্রকৃত ক্রয়মূল্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সেসব দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করাই সমীচীন।



