প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা। মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অটোয়া। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০টির বেশি পণ্য পড়বে।
কানাডা সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাব দিতে প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে বাড়তি শুল্ক বসানো হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কানাডার পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের ওপর যে হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে, কানাডাও একই হারে সংশ্লিষ্ট মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। শুল্কের হার ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন শুল্কের তালিকায় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, কাগজ ও মণ্ড, প্লাস্টিক এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য রাখা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে সরকার। এ খাতে প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের তহবিল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ি, ট্রাক, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে শুল্কের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের প্রভাব দুই দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার বাজারেও এসব পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে।
বাণিজ্য বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ কানাডা মার্কিন গাড়ির অন্যতম বড় বাজার। ফলে শুল্ক বাড়লে পণ্যের মূল্য, আমদানি-রপ্তানি এবং সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে চলমান শুল্কযুদ্ধ উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



