প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০১:১১ পিএম
৬০তম জন্মদিনে পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেপালে গিয়েছিলেন দীপক আহুজা ও তাঁর স্ত্রী মধু আহুজা। কিন্তু সেই আনন্দের সফরই এখন পরিণত হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর এই দম্পতির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের খোঁজে দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই মেয়ে শ্রেয়া ও আশনা আহুজা।
দীপক ও মধু দুজনই মার্কিন নাগরিক এবং ভারতের প্রবাসী নাগরিকত্বের কার্ডধারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, দীপকের ৬০তম জন্মদিন ছিল ৪ আগস্ট। বিশেষ এই দিনটিকে কৈলাসে কাটানোর ইচ্ছা থেকেই তাঁরা বহুদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছিলেন।
একটি আধ্যাত্মিক ভ্রমণ দলের সঙ্গে তাঁরা তিব্বতের সাগা এলাকায় পৌঁছান। সেখানে যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁদের দলের সঙ্গে সদগুরুর সাক্ষাৎও হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ দিকের কথোপকথনে তাঁরা সেই অভিজ্ঞতার কথা আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছিলেন।
পরে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি হঠাৎ ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে তিব্বত-নেপাল সীমান্তের গিয়েরং বন্দর এলাকার সীমান্ত পারাপার কার্যালয়ে তাঁদের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই ওই এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে দীপক ও মধুর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুই মেয়ে জানিয়েছেন, বন্যার কিছুক্ষণ আগেও মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁরা বাবা-মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরে সেই অবস্থানে আর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি এবং একপর্যায়ে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।
শ্রেয়া ও আশনা এখন বাবা-মায়ের সন্ধানে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নিজেদের পরিচিতজন ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেও তাঁরা সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রেয়া জানান, তাঁর বাবা-মা কৈলাসযাত্রার শেষ পর্যায়ে ছিলেন এবং বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জন্মদিন উপলক্ষে এই ভ্রমণ তাঁদের পরিবারের জন্যও ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে দীপক ও মধু খুব আনন্দিত ছিলেন বলেও জানান তাঁদের মেয়েরা।
বাবা-মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় দুই বোন জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু চান তাঁদের বাবা-মা নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুন। তাঁদের সন্ধানে যারা সহযোগিতা করছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তাঁরা।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যার পর বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও পরিবর্তিত হতে পারে। এর মধ্যেই দীপক ও মধুর সন্ধানে পরিবারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।



