প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা বাড়ার মধ্যেই বিষয়টির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ভারত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ ও আত্মরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখার কথা বলা হলেও, নয়াদিল্লি জানিয়েছে—চুক্তিটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের প্রভাব ফেললে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত পুরো পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। বিশেষ করে কোনো ঘটনা ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে মক্কা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখানোর কথা জানিয়েছিলেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সংসদে দেওয়া বক্তব্যে চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা বলেন।
তবে বাংলাদেশ এখনই চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত চুক্তিতে থাকা দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভর করছে। সদস্য দেশগুলো যদি বাংলাদেশকে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে ঢাকা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চুক্তিটি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এতে যোগ দেবে কি না—এ প্রশ্নটি এখনই চূড়ান্তভাবে সামনে আসেনি। সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশের পর বিষয়টির ভালো-মন্দ, সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মক্কা চুক্তির উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য বিস্তার নিয়েও বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ বিস্তৃত হলে এটিকে মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি কাঠামো হিসেবে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটিকে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। নয়াদিল্লির প্রধান উদ্বেগ হলো, নতুন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না। এ কারণে বাংলাদেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে, তা ভারত পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভারত কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। বরং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথাই জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে নতুন কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর নজরে এসেছে।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সদস্য দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং চুক্তির কাঠামো স্পষ্ট হওয়ার পরই ঢাকা বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হলে এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও দেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ভাবনা ও আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এখনো আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও বিষয়টি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঢাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির সদস্য দেশগুলোর অবস্থান, বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব বিবেচনা করবে। আর নয়াদিল্লি বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।



