প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
বাংলাদেশের কাছে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়টি সামনে এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি বড় বাণিজ্যিক সমঝোতার কথা তুলে ধরেন।
সার্জিও গর তার পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অন্যতম সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বেশি পারিশ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে গর বলেন, চলতি সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ কয়েক শ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, বাংলাদেশের এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রাথমিক ক্রয়াদেশের তুলনায়ও বেশি।
গরের বক্তব্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে উড়োজাহাজ কেনার এই উদ্যোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন সার্জিও গর। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। ওই সফরে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে এর আগেই চুক্তি হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে সম্পন্ন হওয়া ওই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে। এসব উড়োজাহাজ সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
এই বিপুল অঙ্কের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন সক্ষমতাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচল সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সার্জিও গরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি, অর্থ পরিশোধের সময়সূচি এবং সরবরাহের বিস্তারিত বিষয় বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের ওপর নির্ভর করবে। ফলে চুক্তির পরবর্তী অগ্রগতি এবং উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচির দিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।



