প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিখ্যাত প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল পানির স্রোতে কয়েকটি সেতু, বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে গেছে। একই সঙ্গে বন্যার তীব্র স্রোতে উপত্যকার কিছু অংশের ভূপ্রকৃতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। এ ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাতীয় উদ্যানের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে পাহাড়ি খাল ও জলধারাগুলোতে পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যায়। পরে শক্তিশালী স্রোত আশপাশের এলাকা প্লাবিত করে এবং সঙ্গে করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ।
বন্যার পানি ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক হয়ে কলোরাডো নদীতে গিয়ে পড়ে। এই জলধারার ওপর থাকা কয়েকটি পায়ে হাঁটার সেতুও প্রবল স্রোতের মুখে টিকতে পারেনি। পানির তোড়ে সেগুলো ভেসে যায়। পাশাপাশি আশপাশের পাথর ও মাটির স্তর ক্ষয় হয়ে উপত্যকার ভূপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ধারণ করা বিভিন্ন দৃশ্যেও বন্যার ব্যাপকতা ফুটে উঠেছে। পানির প্রবল স্রোতের কারণে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের তলদেশ আগের তুলনায় প্রশস্ত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নতুন জলপ্রপাতের মতো প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভূপ্রকৃতি যে এখনো সক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তারই একটি উদাহরণ।
বন্যার সময় ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে প্রায় ৫০ জন পর্যটক ও পদযাত্রী অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টির পর ক্রিকের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কিছু সময়ের মধ্যেই পানির সঙ্গে গাছপালা, পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা যায়। পরে সেখানে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই এলাকায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা এবং একটি খাবারের দোকান রয়েছে। কলোরাডো নদীতে নৌভ্রমণে যাওয়া মানুষের কাছেও এলাকাটি পরিচিত। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো পাথুরে ও খাড়া ভূপ্রকৃতিতে অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ কম থাকে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকও নর্থ রিম থেকে দ্রুত নিচের দিকে নেমে কলোরাডো নদীতে মিশেছে। এই জলধারার উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ৬ হাজার ফুট হওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিপাতও সেখানে ভয়াবহ স্রোত তৈরি করতে পারে।
বন্যার পর নিরাপত্তার কারণে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের কিছু অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পথ, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনার অবস্থা পরিদর্শন করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কলোরাডো নদীতে নৌভ্রমণও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে আসেনি। সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত, পাথরধস এবং বিভিন্ন পথের অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং বন্যার কারণে পরিবর্তিত ভূপ্রকৃতির ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার খবরের কারণে উদ্ধার তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



