রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সেলফি তুলতে গিয়ে পুকুরে পড়লেন ভাই, বাঁচাতে গিয়ে ডুবলেন তিন বোন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

সেলফি তুলতে গিয়ে পুকুরে পড়লেন  ভাই, বাঁচাতে গিয়ে ডুবলেন তিন বোন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থানের ঢোলপুর জেলায় হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পুকুরের পাশে ছবি তুলতে গিয়ে এক তরুণ পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার তিন বোনও পানিতে তলিয়ে যান। পরে উদ্ধারকারীরা চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঢোলপুর জেলার আংরি থানার ধুন্ধ বিরজা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাখি বন্ধন উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা হিরামন বাবা মন্দিরে গিয়েছিলেন। মন্দিরে বিশেষ আয়োজন থাকায় সেদিন সেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

এর মধ্যেই পরিবারের ২৩ বছর বয়সী তরুণ ভোলু ওরফে রবি মন্দিরের পাশের একটি পুকুরের কাছে যান। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় কোনোভাবে তিনি পানিতে পড়ে যান। পুকুরটি ছিল গভীর এবং পানিও ছিল অনেক বেশি।

ভোলুকে পানিতে পড়ে যেতে দেখে তার বোনেরা দ্রুত পুকুরের দিকে ছুটে যান। ভাইকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য কোনো কিছু না ভেবেই তিন তরুণী পানিতে ঝাঁপ দেন। তাদের ধারণা ছিল, ভাইকে দ্রুত পানি থেকে তুলে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ভাইকে উদ্ধার করতে গিয়ে মনোরমা, বোতো ও তাদের তুতো বোন নিশাও পানিতে তলিয়ে যান। একসঙ্গে চারজনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা চালান এবং পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ডুবুরি ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর পানি থেকে একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় ভোলুর পানিতে পড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। পুকুরের পানির গভীরতা এবং অতিরিক্ত পানির কারণে তাকে উদ্ধারে ঝাঁপ দেওয়া তিন তরুণীও নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেননি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ পরিণতি ঘটে।

মৃতদের মরদেহ উদ্ধার করে সরমথুরার সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মৌহরি তাজপুরের ৩০ বছর বয়সী মনোরমা, রামরতন কা পুরার ৩৬ বছর বয়সী বোতো, নথুয়া পুরার ২১ বছর বয়সী নিশা এবং একই এলাকার ২৩ বছর বয়সী ভোলু ওরফে রবি।

পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনে কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে চারজনের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। আনন্দের একটি দিন কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ শোকে পরিণত হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে গভীর হতাশা।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পুকুরের আশপাশে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে গভীর জলাশয়ের কিনারায় ছবি তোলা বা অসতর্কভাবে অবস্থান না করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে এই দুর্ঘটনার পর।

একটি অসতর্ক মুহূর্ত যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, ঢোলপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে থাকল।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!