রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডে-কেয়ারে তিন বছরের শিশুকে চেয়ারে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

ডে-কেয়ারে তিন বছরের শিশুকে চেয়ারে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন

সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তিন বছরের এক শিশুকে ডে-কেয়ার কেন্দ্রে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিচর্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, প্রধান শিক্ষিকা ও দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুর এলাকার একটি খেলাঘর ও ডে-কেয়ার কেন্দ্রে। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে শিশুটিকে একটি ছোট প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে বিশেষ পোশাক দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়। পরে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে প্রায় তিন ঘণ্টা এভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।

সম্প্রতি শিশুটি ডে-কেয়ার থেকে বাড়িতে ফেরার পর হঠাৎ কানে তীব্র ব্যথার কথা জানিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। তার মুখ ও হাতেও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বাবা-মা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটির দুই কানের পর্দাই গুরুতরভাবে ফুলে গেছে। শারীরিক আঘাতের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

এরপর শিশুটির বাবা-মা ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চান। তবে পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে শিশুটিকে কোনো ধরনের মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে পরিবার শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ধারণ করা দৃশ্য দেখতে চায়।

পরিবারের অভিযোগ, সিসিটিভির ধারণ করা দৃশ্য দেখতে তাদের কাছ থেকে দেড় হাজার রুপি নেওয়া হয়। অর্থ দেওয়ার পর তারা কয়েক দিনের ধারণ করা দৃশ্য পর্যালোচনার সুযোগ পান। সেখানেই শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার চিত্র দেখতে পান তার মা।

পরিবারের দাবি, ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, শিশুটিকে একটি বিশেষ পোশাক দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় একজন শিক্ষিকা ও একজন পরিচর্যাকারী তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচর্যাকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডে-কেয়ার কেন্দ্রটির পরিচালক সুনীতা বনশল, প্রধান শিক্ষিকা নীলম এবং দুই শিক্ষিকা সিমরন ও পূজাকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট সন্তানকে দীর্ঘ সময় চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং ওই সময়জুড়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সন্তানের ওপর এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার আশ্বাস দিয়ে পরিচালিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণ করা দৃশ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নির্যাতনের সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবারের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কোনো শিশু যেন পরিচর্যার নামে এমন নির্মমতার শিকার না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেছে পরিবার।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!