রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুক্তির শর্ত মানলে সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দেবে ইরান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

চুক্তির শর্ত মানলে সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দেবে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলে ইরানও একই চুক্তির শর্ত দ্রুত মেনে চলবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। তাই সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। তবে সেই পথে এগোতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।

মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেজেশকিয়ান এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে, তাহলে ইরানও কোনো বিলম্ব না করে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একতরফাভাবে ইরানের কাছ থেকে পদক্ষেপ আশা করা হলে পরিস্থিতির সমাধান হবে না। দুই পক্ষকেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে জুনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। তবে সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়তে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও ইরানের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

ইরান এর আগে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তেহরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একই সঙ্গে সংঘাত কমানো এবং আলোচনার সুযোগ ধরে রাখার বার্তা পাওয়া গেছে। তিনি মনে করেন, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে ইরান আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ ও আগের সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত তুলে ধরা কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য পথ খোলা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই শর্তে কীভাবে সাড়া দেয়, তার ওপর আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

এ অবস্থায় সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আলোচনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট, আগের সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ এবং নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে তারাও দ্রুত চুক্তির শর্ত মেনে চলতে প্রস্তুত।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!