রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, জবাবে তিন দেশে পাল্টা আঘাত তেহরানের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, জবাবে তিন দেশে পাল্টা আঘাত তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানোর পর জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা, সমুদ্রপথে বিস্ফোরক স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহভাজ শহরের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জিরোফট বিমানবন্দরেও হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া চাবাহার, বান্দার আব্বাস এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্র আসালুয়েহ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে। কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের উপকূলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতেও। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি বেড়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটির ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য করা হলে ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি তেহরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরপর পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!