প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ১২ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নিহত ব্যক্তিদের ভারতের মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আগে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে।
সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেটি নজরদারিতে রাখার পর সেখানে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে ১২ জন নিহত হয়। পাকিস্তানের দাবি, নিহতরা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের পেছনে ভারতের সমর্থন রয়েছে।
অভিযানস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় অন্য কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সদস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে পরবর্তী তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। প্রদেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদ ও স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে।
বেলুচিস্তান আয়তনে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। সেখানে তেল, গ্যাস, কয়লা, তামাসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে অঞ্চলটি পাকিস্তানের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর একটি।
পাকিস্তান সরকার মনে করে, বেলুচিস্তানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টনসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তুলে আসছে।
নতুন এই অভিযানের মধ্য দিয়ে বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



