রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মুসলিম হওয়ায় দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে বেধড়ক পেটাল পুলিশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

মুসলিম হওয়ায় দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে বেধড়ক পেটাল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকারি একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই নারী সাংবাদিক পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, তাদের ধর্মীয় পরিচয় মুসলিম জানার পর পুলিশি নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তবে পুলিশ এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করার কারণে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘটে বলে জানা গেছে। সেখানে হাসপাতালের নতুন একটি অংশ উদ্বোধন করতে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানটি সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান।

শাহীন খানের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করার পর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, একপর্যায়ে লাঠি দিয়েও আঘাত করা হয়।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে চায় এবং তারা মুসলিম—এ কথা জানার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে ও ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা যায়।

তবে সাংবাদিকদের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, দুই সাংবাদিক নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পথে তাদের স্কুটি রেখে দিয়েছিলেন। ওই পথে বিশেষ ব্যক্তিদের চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় পুলিশ তাদের যানবাহন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু একাধিকবার বলার পরও তারা সেটি সরাননি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ওই পথ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দুই সাংবাদিককে চলে যেতে বলা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু সে সময় তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

দক্ষিণ দিল্লির পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের করা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটিকে ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার পক্ষে কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে নিরাপত্তাব্যবস্থা লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে এনেছে পুলিশ। ফলে প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!