প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় দেশ কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই স্কুলশিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনায় বাসচালকও মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফোগো দ্বীপের পাহাড়ি সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সাঁও ফিলিপ শহরের দিকে ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৩২ জন আরোহী ছিলেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। গভীর খাদে বাসটি পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং হতাহতদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফোগো দ্বীপের সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালেও কয়েকজন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নতুন কোনো সংখ্যা জানায়নি।
দুর্ঘটনায় বাসচালকেরও মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাহাড়ি সড়কের পরিস্থিতি, বাসের গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণসহ দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
একসঙ্গে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কেপ ভার্দেজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলশিক্ষার্থী হওয়ায় দুর্ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে। পরিবারগুলোর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উদ্বেগ। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্মরণে কেপ ভার্দেতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
কেপ ভার্দের মতো পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দুর্গম পথ ও উদ্ধারকাজের জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফোগো দ্বীপের এই দুর্ঘটনাতেও সেই বাস্তবতা সামনে এসেছে। গভীর খাদে বাসটি পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের সরিয়ে আনতে উদ্ধারকারীদের অতিরিক্ত সময় ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেল এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোনো যান্ত্রিক বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফোগো দ্বীপের এই দুর্ঘটনা কেপ ভার্দের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও দেশজুড়ে প্রার্থনা করা হচ্ছে।



