প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি পণ্যবাহী বিমান। রানওয়ে অতিক্রম করে বিমানটি মাটিতে থাকা একাধিক যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের কিছু আগে বিমানবন্দরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পণ্যবাহী বিমানটি অবতরণের পর নির্ধারিত পথে থামতে না পেরে রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়। পরে বিমানটি বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা একাধিক যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কয়েকজন ব্যক্তি আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। বিমান ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শতাধিক উদ্ধারকর্মী ও বহু উদ্ধারকারী ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আটকে পড়াদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। বিমানের ভেতর পাইলট ও সহকারী পাইলটও আটকে ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। অবতরণের সময় বিমানটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০৭ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি নির্ধারিতভাবে থামতে পারেনি এবং রানওয়ে অতিক্রম করেছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল প্রায় ৩২ বছর পুরোনো একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ধরনের পণ্যবাহী উড়োজাহাজ। এটি একটি কার্গো বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সরকারি পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবহন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। বিমানটি অবতরণের সময় এর গতি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আবহাওয়া, রানওয়ের পরিস্থিতি এবং পাইলটদের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি ব্যস্ত বিমানবন্দর হওয়ায় দুর্ঘটনার পর সেখানকার স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক বছর আগে একই ধরনের একটি পণ্যবাহী বিমান দুর্ঘটনায় চালকদলের তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর উড়োজাহাজটির পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হয়েছিল। নতুন এই দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
মিয়ামির এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



