প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় ভবন থেকে পড়ে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লী জেলার অচ্যুতাপুরম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম কমলেশ যাদব। তার বয়স ৪৩ বছর। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং স্থানীয় একটি মদের দোকানে কাজ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি ওই তরুণী অন্ধ্রপ্রদেশে ফার্মেসি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি অচ্যুতাপুরম এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে একই বাসায় এক পুরুষ পরিচিতও থাকতেন। তিনি স্থানীয় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
নিহত কমলেশ যাদবও ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনে ভাড়া থাকতেন। যাতায়াতের সময় তিনি বাংলাদেশি ছাত্রীকে নিয়মিত দেখতে পেতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন ওই ছাত্রীর পুরুষ সহপাঠী বা পরিচিত ব্যক্তি কাজে বাইরে গেলে বাসায় একাই ছিলেন তিনি। এ সুযোগে কমলেশ তার বাসায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। প্রথমে তিনি ঘরের শৌচাগার পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলেন। এতে ওই ছাত্রী সন্দেহ না করলেও কিছু সময় পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শৌচাগার পরিষ্কারের অজুহাতে ঘরে অবস্থান করার পর কমলেশ ওই ছাত্রীর ওপর জোর করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তখন ওই ছাত্রী বাধা দেন এবং দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়লে কমলেশ দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরের সিঁড়ি ব্যবহার না করে কমলেশ একটি পিলার ধরে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিচে নামার একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে ওপর থেকে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ছাত্রীর কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর বাসায় প্রবেশ করেছিলেন এবং তার সঙ্গে আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।
আনাকাপল্লী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিদেশের মাটিতে একা অবস্থানরত একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে তার বিরুদ্ধে সরাসরি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশি ছাত্রীর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত ক্রম, অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং ওই সময়ের পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।



