প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুনরুদ্ধারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা এসেছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াইও তীব্র হয়েছে।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে ইয়েমেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি রাজধানী পুনর্দখলের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামনে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আসছে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানানো হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্যে আসন্ন অভিযানে নতুন ধরনের কৌশল ব্যবহারের আভাস পাওয়া গেছে।
একই দিনে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলিও রাজধানী পুনরুদ্ধারকে চলমান সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত করে সানাকে সব ইয়েমেনির রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিশোধ বা নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্যের পরিবর্তে সবাইকে ভবিষ্যৎ ইয়েমেনের অংশীদার করার কথাও বলা হয়েছে।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের নতুন এই পর্যায়কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানীর দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত আল-জাওফ এবং আল-বায়দা এলাকায় সংঘর্ষ বেড়েছে। সরকারি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা অভিযান চালানোর পাশাপাশি হুথিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকট পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত চললেও ২০২২ সালে বড় ধরনের লড়াই অনেকটা কমে আসে এবং এক ধরনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় আগের তুলনায় বড় আকারের সামরিক মোকাবিলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘাতে নিহত ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এরই মধ্যে সানা পুনর্দখলের ঘোষণা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌপথেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



