রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন শি জিনপিং

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন শি জিনপিং

ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত সফরের ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ভারতে আসছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনার মধ্যে ছিল। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হন। চীনের পক্ষেও সেনা হতাহতের কথা স্বীকার করা হয়েছিল, যদিও নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

গালওয়ান সংঘর্ষের পর এবারই প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন শি। এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মামাল্লাপুরামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ভারতে শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় দুই দেশের নেতৃত্বেই ছিলেন মোদি ও শি। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এরপর ২০১৯ সালে তার ভারত সফর হলেও ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।

এবারের সফরের ঘোষণা আসার আগে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লি যাবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। এমনকি সফরের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করায় সেই জল্পনার অবসান হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে। ফলে শির এই সফর শুধু একটি বহুপক্ষীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে জোটটির গুরুত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত উত্তেজনার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ কতটা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!