প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুই দিনের বিশেষ অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বিদেশিদের বসবাসের জন্য পরিচিত স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত চলে। অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ জন বিদেশিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট ৩৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৩২৮ জন এবং মিয়ানমারের ১৮৩ জন নাগরিকও রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশিদের বসবাসের এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত থাকার শর্ত ভঙ্গ, নির্ধারিত সময়ের পরও দেশটিতে অবস্থান করা এবং অনুমোদনহীন নথি ব্যবহারের মতো অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় তদন্তে সহযোগিতার জন্য ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের নিজেদের বাড়িতে থাকার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন বাড়ির মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়তে থাকায় দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও চলছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার বিদেশিকে অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগও রেখেছে মালয়েশিয়া সরকার। নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করে আত্মসমর্পণ করলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দেশটিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।



