রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর, ভিসা নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর, ভিসা নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে মার্কিন সরকারের নেওয়া নীতি বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এ রায় দেন জেলা বিচারক জেনেট ভার্গাস। তিনি মনে করেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ করার এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল। তালিকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছিল। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকা, বলকান, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছিলেন।

মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশটির স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল।

তবে আদালত সেই যুক্তিকে ভিন্নভাবে দেখেছে। বিচারক ভার্গাসের মতে, কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে অভিবাসী ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত প্রচলিত অভিবাসন আইনে নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়ার কাঠামোকেই কার্যত অকার্যকর করে দেয়।

অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন, ভিসার আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিছু নাগরিক এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, নীতিটি জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। ওই মামলার শুনানি শেষে বিচারক নীতিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ের ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তবে ভিসা প্রক্রিয়া কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হবে। রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে দপ্তরটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!