প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
দেশে অকটেনের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। আমদানি অব্যাহত থাকা এবং দেশীয় উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি মার্চে অকটেন বিক্রি কিছুটা বাড়লেও এপ্রিল মাসে তা কমে গেছে। দৈনিক গড় বিক্রি কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পর জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে পেট্রল ও অকটেন কিনতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। মার্চের শুরুতে বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সীমিত বরাদ্দের ব্যবস্থা চালু করে। পরে তা শিথিল করা হলেও সরবরাহ এখনো আগের হিসাবেই রাখা হয়েছে।
বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, পাম্পগুলো থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা আসছে। কিন্তু বরাদ্দ আগের মতো থাকায় অনেক পাম্প নিয়মিত তেল পাচ্ছে না। ফলে একদিকে সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে বাড়তি চাহিদা—দুইয়ের প্রভাবে সংকট তীব্র হচ্ছে।
পেট্রলপাম্প মালিকদের দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অকটেন ও পেট্রলের ওপর চাপ অনেক বেশি। তারা মনে করেন, সরবরাহ বাড়ানো হলে পাম্পে ভিড় কমে আসবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। তবু কেন সরবরাহে ঘাটতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আতঙ্কজনিত কেনাকাটা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



