রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০ লিটার দেখিয়ে কম দিচ্ছিল ৫৮০ মিলিলিটার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

১০ লিটার দেখিয়ে কম দিচ্ছিল ৫৮০ মিলিলিটার

প্রতীকী ছবি

রংপুর নগরীতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম অকটেন সরবরাহের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে দেখা যায়, যন্ত্রে ১০ লিটার অকটেন সরবরাহের পরিমাণ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে ৫৮০ মিলিলিটার কম। ফলে ১০ লিটারের দাম পরিশোধ করেও গ্রাহক পাচ্ছিলেন ৯ লিটার ৪২০ মিলিলিটার অকটেন।

শনিবার দুপুরে নগরীর মাহিগঞ্জ সাতমাথা মোড় এলাকায় মেসার্স ওমর ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান এবং বাংলাদেশ মান সংস্থা ও পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে ফিলিং স্টেশনের তেল সরবরাহের যন্ত্র ও পরিমাপব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। একটি যন্ত্রে নির্ধারিত ১০ লিটার অকটেন পরিমাপ করে যাচাই করার সময় পরিমাণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। যন্ত্রের প্রদর্শিত হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে সরবরাহ করা তেলের পরিমাণের পার্থক্য পাওয়া যায়। প্রতি ১০ লিটারে ৫৮০ মিলিলিটার কম দেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ফিলিং স্টেশনটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অভিযানে তেল পরিমাপ ও যাচাইয়ের কাজে বাংলাদেশ মান সংস্থা ও পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক প্রকৌশলী মো. আহসা হাবিব দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, গ্রাহকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করে কম পরিমাণে সরবরাহ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তেল বিক্রির ক্ষেত্রে পরিমাপে কারসাজি বা গ্রাহককে ঠকানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রতি ১০ লিটারে ৫৮০ মিলিলিটার কম দেওয়ার মতো অনিয়ম দীর্ঘদিন চললে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ফিলিং স্টেশনগুলোর তেল পরিমাপের যন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারক করা জরুরি।

ভোক্তাদেরও জ্বালানি নেওয়ার সময় যন্ত্রে প্রদর্শিত পরিমাণ এবং সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা প্রতারণার সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নগরীতে ভোক্তাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!