রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রংপুরে ৪ খুনে আসামিদের পক্ষে না লড়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

রংপুরে ৪ খুনে আসামিদের পক্ষে না লড়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতির

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষে সাময়িকভাবে মামলা পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে শনিবার সমিতির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে। বিশেষ করে তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে মনে হলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষে আইনগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে সমিতি।

শনিবার দুপুরে আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আহমেদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনজীবী সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের একটি বার্তা দিতেই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনজীবীরা অর্থের বিনিময়ে যেকোনো অপরাধকে সমর্থন করেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। তবে এই অবস্থান কতদিন থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী এক সপ্তাহ, এক মাস, কয়েক মাস কিংবা আরও দীর্ঘ সময় এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী না থাকলে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব বলেন, আইন অনুযায়ী আসামির পক্ষে আইনজীবী না থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে না। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধ ও মৃত্যুদণ্ডের মতো মামলায় প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমবেদনা ও প্রতিবাদের জায়গা থেকেই এটি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে আসামিদের পক্ষে আইনগত লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমানে তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু তথ্য সামনে এসেছে এবং পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালতে দেওয়া তাঁদের জবানবন্দির বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন—দুই দিকই নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানিয়েছে আইনজীবী সমিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক বিতর্কে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করা হয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে দায়ী না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রতিবেশী দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

আইনজীবী সমিতির নেতারা জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনের বিধান ও আসামির আইনগত অধিকারও যেন যথাযথভাবে বজায় থাকে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!