প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রংপুরের কাউনিয়ায় দুই ছেলের মধ্যে মারামারির ঘটনা দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন নামের ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ছেলেদের ঝগড়া ও মারামারির দৃশ্য দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহির উদ্দিন তাঁর ছোট স্ত্রী এবং দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। ছোট ছেলে রশিদুল নেশায় আসক্ত হওয়ায় কয়েক দিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না বাবা ও বড় ভাই মাইদুল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
বুধবার দুপুরে রশিদুল দোকানে গিয়ে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বড় ভাই মাইদুল বাধা দিলে তাঁদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই ভাই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
ঠিক সেই সময় দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছান মহির উদ্দিন। সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে বড় ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মহির উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, ছেলেদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন মহির উদ্দিন। তাঁদের ধারণা, সেই সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগেও তিনি দুবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদ্যন্ত্রে একটি রিং বসানোর কথা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সেটি করানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় লোকজনও বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের পারিবারিক বিরোধের কারণে একজন বাবার এমন করুণ পরিণতি এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, দুই ছেলের মারামারির ঘটনা দেখে একজনের মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। ছেলেদের এমন কর্মকাণ্ডের মধ্যে বাবার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত মহির উদ্দিনের দুই স্ত্রী রয়েছেন। বড় স্ত্রীর ছেলে বাইরে থেকে আসার পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে স্বজনেরা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।



