রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন সহোদর ভাই এবং অপরজন তাদের নিকট আত্মীয়, যিনি বোনজামাই হিসেবে পরিচিত।সোমবার ভোরের দিকে মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে, এতে চক্রের একজন সদস্য আহত হন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পলাশ, সাকিব এবং বিপ্লব হোসেন। জানা গেছে, পলাশ ও সাকিব গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী এলাকার বাসিন্দা। বিপ্লব তাদের আত্মীয় এবং বোনজামাই হিসেবে চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোববার গভীর রাত থেকেই চক্রটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল। সন্দেহভাজন অবস্থায় তাদের চলাচল শনাক্ত করার পর ভোরে ধানমন্ডি এলাকার একটি স্থানে তারা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। ওই সময় তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে পুলিশ ধাওয়া শুরু করে।

ধাওয়া খেয়ে চক্রটি দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে মোহাম্মদপুরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে চক্রের একজন সদস্যের পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই আহত হন। পরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়, তবে চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ধারালো ছুরি, চাপাতি, কুড়াল এবং খেলনা পিস্তল। এছাড়া ছিনতাইয়ের সময় নেওয়া ১০টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা মূলত একা চলাচলকারী পথচারী, রিকশা বা অটোরিকশার যাত্রীদের টার্গেট করে দ্রুত গতির মোটরসাইকেলে এসে ছিনতাই করে পালিয়ে যেত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রটির বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। রাজধানীতে মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!