রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কালশী কবরস্থান এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করলো ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

কালশী কবরস্থান এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করলো ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন

ফাইল ছবি

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের আড়ালে প্রতিদিনই নীরবে বেড়ে চলেছে অসংখ্য নিম্নআয়ের ও ভাসমান মানুষের জীবনসংগ্রাম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং নগর জীবনের বাড়তি ব্যয়ের চাপে যখন অসহায় মানুষের একবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠেছে, ঠিক সেই সময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন’।

সংগঠনটির উদ্যোগে রাজধানীর কালশী কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১২০ জন অসহায়, দুস্থ ও ভাসমান মানুষের মাঝে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়েছে।বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেন ফাউন্ডেশনের একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় সমাজসেবক এবং সাধারণ সদস্যরা।খাবার বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কালশী কবরস্থান ও পার্শ্ববর্তী বস্তি এলাকায় এক মানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন।

খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, মুরগির মাংস, ডাল, সবজি এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। আয়োজকদের দাবি, শুধুমাত্র খাবার বিতরণ নয়—পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে অনেক নিম্নআয়ের পরিবার দিনে দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে।বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভবঘুরে ও বস্তিবাসীদের জীবনে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় ওয়েলনেস ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ স্বস্তি ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।

খাবার নিতে আসা কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি জানান, অনেক সময় কাজ না থাকায় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। এমন উদ্যোগ শুধু তাদের পেটের ক্ষুধাই মেটায় না, বরং সমাজে এখনও মানবতা বেঁচে আছে—সেই আশাও জাগিয়ে তোলে।এই উদ্যোগ সম্পর্কে ওয়েলনেস ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি বলেন,“সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি সামান্যতম মানুষের কষ্ট লাঘব করে, তবেই আমাদের সার্থকতা।

ভবিষ্যতেও ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র খাদ্য সহায়তা নয়—সংগঠনটি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং পথশিশুদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত আকারে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

কর্মসূচির সময় স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত মানুষের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস নিয়েও সচেতনতামূলক আলোচনা করেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বর্তমানে সমাজে মানবিক উদ্যোগের বড় প্রয়োজন রয়েছে।
 
বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব সম্ভব হবে। তারা ওয়েলনেস ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রমকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নগর দরিদ্রের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।অর্থনৈতিক চাপের এই সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মানবিক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।বিশেষ করে তরুণদের এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ততা সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করছে।

ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন সম্পর্কে: 

ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। 

সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংগঠনের এমন উদ্যোগ রাজধানীর নাগরিক সমাজে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!