রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নলছিটিতে লাশবাহী খাটিয়ায় পিকআপের ধাক্কায় আহত ৪, ক্ষোভে যানবাহনে আগুন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

নলছিটিতে লাশবাহী খাটিয়ায় পিকআপের ধাক্কায় আহত ৪, ক্ষোভে যানবাহনে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠির নলছিটিতে দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহ নেওয়ার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। লাশবাহী খাটিয়াকে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে মরদেহ সড়কে পড়ে যায় এবং অন্তত চারজন আহত হন। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত যানটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার রাতের দিকে উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় বরিশাল–পটুয়াখালী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পরিবারের সদস্যের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্বজনরা মরদেহ খাটিয়ায় বহন করে কবরস্থানের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাটিয়াবাহী মানুষের ওপর উঠে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে মানুষ ছিটকে পড়ে এবং খাটিয়া থেকে মরদেহ সড়কে পড়ে যায়। উপস্থিত স্বজনদের কান্না আর মানুষের চিৎকারে মুহূর্তেই পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই প্রথমে কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননি।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মৃত ব্যক্তির পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সদস্য। তাদের মধ্যে একজন মৃত ব্যক্তির ছেলে, আরেকজন আত্মীয় ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল এবং চালকদের অসচেতনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়টি অনেকের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপটিকে ঘিরে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত পুরো যানটিতে ছড়িয়ে পড়লে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট তৈরি হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন পরিবহন আটকে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী। তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি মহাসড়কে আটকে থাকা যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করতেও কাজ শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সংবেদনশীল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। চালকের গাফিলতি, অতিরিক্ত গতি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অনেকে বলেন, দাফনের মতো শোকাবহ মুহূর্তে এমন ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই এটিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতেও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।

সামাজিকভাবেও ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনা শুধু কয়েকজন মানুষকে আহত করেনি, বরং একটি শোকাহত পরিবারকে আরও বড় মানসিক আঘাত দিয়েছে। মরদেহ বহনের সময় এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এলাকাবাসীকেও নাড়া দিয়েছে।

বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!