প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা। কয়েকদিন ধরেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকেই আগেভাগেই পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর যারা এখনো শহরে ছিলেন, তারাও শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে ছুটছেন আপনজনের কাছে।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত দূরপাল্লার যানবাহন কেন্দ্র কল্যাণপুর এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য যাত্রীরা সকাল থেকেই বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সারি, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ব্যাগ-বোঝাই ভিড় এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন ঈদযাত্রার এক আলাদা চিত্র ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত যাত্রীরা কাউন্টারের সামনে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই এসে অপেক্ষা করছেন, যাতে যাত্রাপথে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। ফুটপাত, অপেক্ষাকক্ষ এবং সড়কের পাশে বসেও অনেকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
অনেক যাত্রীর মতে, আগের বছরের তুলনায় এবারের যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক। সড়কে বড় ধরনের যানজট না থাকায় এবং সময়মতো গাড়ি ছাড়ার কারণে অনেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কিছু পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ পথের যাত্রা আরামদায়ক করার উদ্দেশ্যে অনেকেই উন্নত সুবিধাসম্পন্ন যানবাহন বেছে নিচ্ছেন। ফলে এসব গাড়ির টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগে কিছু পরিবহন সংস্থা তুলনামূলক বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের। তবে বাড়তি খরচ হলেও দ্রুত ও স্বস্তিদায়কভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারায় অনেকে বিষয়টিকে মেনে নিচ্ছেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বাস টার্মিনাল ও যাত্রীসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরজীবন থেকে কয়েক দিনের বিরতি নিয়ে শেকড়ের টানে গ্রামের পথে ছুটে চলা মানুষের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। যদিও কিছুটা বাড়তি খরচ ও ভিড়ের চাপ রয়েছে, তবুও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দের কাছে এসব কষ্ট যেন ম্লান হয়ে গেছে।



