প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৯:০০ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ বিরতির পর আজ থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও শুরু হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রায় টানা ষোল দিনের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে স্কুল, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ অবকাশের পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে নতুন উদ্দীপনা।
শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী গত ২৪ মে থেকে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষে আজ থেকে দেশের অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ঘরে কাটানোর পর শিক্ষার্থীরা আবারও পাঠ্যক্রমে ফিরবে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় এবং কলেজের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আজ থেকে পাঠদান শুরু হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধীরে ধীরে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসগুলো আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে পাঠদান শুরু হচ্ছে না। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী আলিয়া ও কওমি ধারার অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি আরও কয়েকদিন বহাল থাকবে। দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত অবকাশ চলবে। এরপর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে সেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আবারও পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষামুখী শ্রেণিতে রয়েছে, তাদের জন্য সময়মতো পাঠ্যসূচিতে ফিরে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা মনে করছেন, শুরুতেই পাঠের চাপ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান গরম আবহাওয়া এবং তাপপ্রবাহের বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষে বাতাস চলাচলের সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ছাড়া রোদে অবস্থান না করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকরাও সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত গরমে বাইরে খেলাধুলা সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ থেকে দেশের শিক্ষাঙ্গনে আবারও ফিরছে ব্যস্ততা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



