প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। তবে বাড়ি ফেরার এই আনন্দযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দীর্ঘ ধীরগতি। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে থেমে থেমে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে পুংলী পর্যন্ত দীর্ঘ অংশে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও গাড়ি দীর্ঘ সময় স্থির থাকায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় রাস্তায় কাটাচ্ছেন।
পথে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের আগে এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলেঙ্গা মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, যমুনা সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়া এবং একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টি ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই সেতু এলাকায় একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি যানবাহন অচল হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
সকালে উত্তরাঞ্চলগামী পথে আবারও কয়েকটি যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে উদ্ধারযান কাজ শুরু করে। তবে গাড়ি সরানোর আগ পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতির পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
ঈদকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক এখন অন্যতম ব্যস্ত পথে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করায় সামান্য প্রতিবন্ধকতাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকল গাড়ি দ্রুত অপসারণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধরে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



