প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চৈতী শিল্পাঞ্চল এলাকায় শুরু হওয়া এ আন্দোলনের ফলে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকেই বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষ শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে একপর্যায়ে প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মেঘনা টোল এলাকা থেকে মদনপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার বিস্তৃতি প্রায় আট কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আটকে পড়ে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত যানবাহন, জরুরি সেবার গাড়ি এবং অসংখ্য সাধারণ যাত্রী।
যানজটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ঈদে ঘরে ফেরা পরিবারগুলো। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উৎসবের আগে এমন পরিস্থিতি যাত্রাকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে ঈদের আগে শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। তাদের ভাষ্য, প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাওনা থাকলেও মাত্র অল্প কিছু অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ঈদের পর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যা তারা মেনে নিতে পারছেন না।
এক নারী শ্রমিক বলেন, ঈদের আগে সংসারের খরচ, বাজার ও সন্তানদের পোশাক কেনার চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পাওনা টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সড়কে নামতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। তবে শ্রমিকরা জানান, পাওনা পরিশোধের বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল সচল করতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।



