প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানী ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ। তবে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাত্রা শুরু করলেও পথে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বৃষ্টি, সড়ক দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ ধীরগতি।
বুধবার ভোররাত থেকেই যমুনা সেতু এলাকা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কোথাও যানবাহন ধীরে এগিয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। নির্ধারিত যানবাহন না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক, পণ্যবাহী যান কিংবা বাসের ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এতে জীবনের ঝুঁকি বাড়লেও বাড়ি ফেরার আকুতি থামাতে পারেননি তারা। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা করা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ভেজা সড়ক ও ধীরগতির কারণে যাত্রা হয়ে উঠেছে আরও ক্লান্তিকর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে সেতুর দুই পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ঈদকে সামনে রেখে মানুষের এই ঘরে ফেরার যাত্রা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা।



