প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আবহ এবং ত্যাগের মহান শিক্ষায় সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সকাল থেকেই ঈদের জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। নামাজ শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শুরু হয় পশু কোরবানির কার্যক্রম, যা ঈদের মূল অনুষঙ্গ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত এবং তা আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের ব্যস্ততা দেখা যায়। একই চিত্র ছিল দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছেও কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা সামাজিক সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা কেবল উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। তিনি আরও বলেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে তাঁদের নিঃশর্ত আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের ভেতরের লোভ, হিংসা ও অসৎ প্রবৃত্তিকে দমন করার শিক্ষা দেয়। তিনি ঈদকে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ দেখায়। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করেন। পাশাপাশি পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং কোরবানির পর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক ঐক্যের বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে এবারের ঈদুল আজহা।



