রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির দৌড় 

শহিদুল ইসলাম খোকন

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির দৌড় 

ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীবাসীকে দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ৭৫২টি যানবাহন ও ৭২ ঘণ্টার বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

এই কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ রাজধানীর মিরপুর সিরামিক রোড এলাকায় যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।

তিনি বলেন-
“ঈদের আনন্দ যেন দুর্গন্ধ ও ভোগান্তিতে ম্লান না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা মাঠপর্যায়ে তদারকি করছি। আশা করছি রাত ২টার অনেক আগেই অধিকাংশ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও যেন বর্জ্য জমে থেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

দুপুর ২টা পর্যন্ত অপসারণ ৩ হাজার ১৫৮ টন বর্জ্য: 

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৩৬টি ট্রিপের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ১৫৮ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি অঞ্চলে আলাদা মনিটরিং টিম, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা ইউনিট কাজ করছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ডাম্প ট্রাক, কম্প্যাক্টর, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, এক্সকাভেটর ও ওয়াশিং ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।

পলিব্যাগে বর্জ্য রাখুননগরবাসীর প্রতি আহ্বান:-

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নগরবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আপনারা কোরবানির বর্জ্য অবশ্যই পলিব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখবেন। এতে দ্রুত অপসারণ সহজ হবে এবং পরিবেশ দূষণও কমবে। নগরবাসী আস্থা রাখতে পারেন, ইনশাআল্লাহ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পুরো নগর পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণ না করা হলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সৌন্দর্য রক্ষাই নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত।

৭২ ঘণ্টার বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান: 

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসি একটি ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন-
“প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শতভাগ সফলতা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে অনুরোধ করবো, নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।”

তিনি আরও জানান- পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম, গ্লাভস, মাস্ক ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।

মাঠে তদারকিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা: 

পরিদর্শন কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক সচেতনতাই বড় শক্তি: 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঈদুল আজহার সময় রাজধানীতে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি হয়। এই বিশাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলছেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, নাগরিক দায়িত্ববোধও সমান জরুরি। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য রাখা, রাস্তা বা ড্রেনে পশুর রক্ত না ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করলেই দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ঈদের আনন্দের মধ্যেও রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে ডিএনসিসির এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ ইতোমধ্যে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!