প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দে যখন দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট গাবতলীতে হতাশা আর লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক খামারি ও গরু ব্যবসায়ী। প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় শেষ মুহূর্তেও বিপুলসংখ্যক পশু বিক্রি করতে পারেননি তারা। ফলে বাধ্য হয়ে অবিক্রিত গরু আবারও ট্রাকে তুলে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে দেখা গেছে অনেককে।
ঈদের দিন সকালে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা গরু বিক্রি না হওয়ায় উদ্বিগ্ন মুখে ট্রাকের সন্ধান করছেন। কেউ কেউ দ্রুত পশু বোঝাই করে ফিরতি পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হাটের বিভিন্ন অংশে হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনেক খামারির অভিযোগ, এ বছর পশুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকলেও শেষ সময়ে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও কাদাপূর্ণ পরিবেশে পশু রাখাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এতে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় অনেকে কম দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক ডজন গরু নিয়ে হাটে এলেও অর্ধেকের বেশি বিক্রি হয়নি। যেসব পশুর দাম কয়েকদিন আগেও অনেক বেশি ধরা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে সেগুলো কম দামে ছাড়তে হয়েছে। ঋণ করে ব্যবসা করায় লোকসান হলেও বিক্রি ছাড়া উপায় ছিল না বলে জানান তিনি।
আরেক খামারি বলেন, পশু ফেরত নেওয়ার খরচ ও খামারে পুনরায় রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বিবেচনা করে অনেকে কম দামে গরু ছেড়ে দিয়েছেন। কারও কারও দাবি, একটি গরু বিক্রিতেই কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকার বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা।
অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, ঈদের আগের তুলনায় শেষ সময়ে গরুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলক স্বস্তিতে পশু কিনতে পেরেছেন।
হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, আগের দিনের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দাম কমে গেছে। আগে যেসব পশুর দাম নাগালের বাইরে মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত তা কম মূল্যে কেনা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে দামের বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। এতে ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পেলেও ক্ষতির বোঝা কাঁধে নিয়ে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে বহু খামারি ও ব্যবসায়ীর।



