প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে এবারও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংগ্রাহকেরা। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও বাস্তবে বাজারে সেই দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কোরবানিকে ঘিরে বাড়তি আয়ের যে আশা ছিল, তা অনেকের কাছেই ম্লান হয়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার অস্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন পরিবহনে করে গরু ও খাসির চামড়া এনে স্তূপ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এতে করে দাম আরও কমে যায় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, সরকার মূল্য কিছুটা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই প্রভাব নেই। কারণ বড় ক্রেতারা বা প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনার নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো অনেক ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় কম দামে চামড়া কেনা হচ্ছে। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও বাধ্য হয়ে কম মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করছেন।
অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুর চামড়ায় প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে বাজারে দাম আরও কমে যায়। কোনো কোনো স্থানে একটি গরুর চামড়া খুবই কম দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে।
ছোট মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে সংগ্রহ করা চামড়াও প্রত্যাশিত মূল্য পায়নি বলে জানা গেছে। কয়েকজন সংগ্রাহক জানান, চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তারা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন। এতে বাজারে দরপতনের সুযোগ নেয় কিছু ক্রেতা।
ছাগল ও খাসির চামড়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগের মতো এবারও এসব চামড়ার প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ খুব বেশি ছিল না। ফলে অনেক স্থানে এগুলো প্রায় অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পে প্রত্যাশিত চাহিদার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যথাযথ নজরদারি এবং সরকার ঘোষিত মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে প্রতিবছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।



