রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে জোরদার তৎপরতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে জোরদার তৎপরতা

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে দ্বিতীয় দিনেও জোরদার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঈদের আনন্দের সঙ্গে যেন দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ কিংবা জনদুর্ভোগ যুক্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী পশুর হাটের ময়লা দ্রুত অপসারণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঈদের প্রথম দিন রাত পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন বর্জ্য ফেলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীর পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিসরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে নগরের একটি অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্তদের দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বর্জ্য অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত জনবল, বর্জ্য পরিবহনযান এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে কোথাও যাতে বর্জ্য জমে না থাকে, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে হাট সম্প্রসারণ বা সড়ক দখল করে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানাসহ ভবিষ্যতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে।

নগর কর্তৃপক্ষ রাজধানীবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি সম্পন্ন করা, বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য। কারণ নাগরিক সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ঈদের উৎসব শেষে দ্রুত নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে চলমান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক নগরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীর সব এলাকা সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে এবং ঈদের আনন্দের পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!