রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রের টানে ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপ্রেমী। ফলে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর এলাকায় পর্যটকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করেছেন, কেউ আবার আনন্দঘন মুহূর্ত স্মৃতিতে ধরে রাখতে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের অবকাশযাপন মিলিয়ে সৈকতজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।

দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা এবং নগর জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে অনেকেই ঈদের ছুটিকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমণের জন্য। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষায় সমুদ্রপাড়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বহু মানুষ। দুপুরের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে আবাসন খাতেও। হোটেল, আবাসিক ব্যবস্থা ও অতিথিশালাগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা।

পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, ঈদের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করতেই তারা সমুদ্র শহরে এসেছেন। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের আনন্দ, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ—সব মিলিয়ে ভ্রমণ হয়ে উঠেছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে সাধারণত কোরবানির ব্যস্ততার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে। তবে ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আবাসন কেন্দ্রগুলোতে কক্ষ বুকিংয়ের হারও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিনেই কয়েক হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। পর্যটকদের চাপে সৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকান, বিনোদনকেন্দ্র ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ছুটির শেষভাগে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। বিপজ্জনক অংশগুলো চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য। পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারির কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সমুদ্রের গর্জন, নীল জলরাশি আর উৎসবের আবহে ঈদের দ্বিতীয় দিনে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের আশা, ছুটির বাকি সময়জুড়েও এমন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকবে দেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটন নগরী।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!