প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ ও নগর সবুজায়নের নতুন বার্তা নিয়ে তেজগাঁও পলিটেকনিক খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন সড়ক ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।
সোমবার (১ জুন) সকালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে গাছপালা ও সবুজায়নের কিছু ক্ষতি হলেও তা পুনরুদ্ধারে ডিএনসিসি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নতুন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনেক এলাকাকে আগের চেয়েও অধিক সবুজ, মনোরম ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরার মেট্রোরেল এলাকাকে ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিকর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জনগণের কাছে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিতে তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, “কোরবানি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, এটি পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও শিক্ষা দেয়। কোরবানি-পরবর্তী সময়ে মানুষ যেন পরিবেশ রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি জানান, “ক্লিন অ্যান্ড গ্রীন ঢাকা” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় তেজগাঁও পলিটেকনিক পশুর হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রশাসক।
ঈদের বর্জ্য অপসারণে ব্যাপক কার্যক্রম:
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে হাজারো পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও শত শত যানবাহন মাঠে কাজ করছে। ঈদ-পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটে বর্জ্য ও বাঁশের কাঠামো অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রশাসক জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে একাধিক পশুর হাট পরিদর্শন করেছেন এবং অধিকাংশ হাটে বর্জ্য ও অস্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। যেসব স্থানে কাজ এখনও চলমান রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনো ইজারাদার নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য বা বাঁশের ফ্রেম অপসারণে গাফিলতি করেন, তাহলে তাদের জামানত থেকে ব্যয় সমন্বয়সহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসিত ইজারাদার:
বাংলাদেশে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় এবার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তেজগাঁও পলিটেকনিক পশুর হাটের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম। নিজ উদ্যোগে এবং সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বর্জ্য অপসারণ শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করায় তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই না, পরিবেশের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। একটি পশুর হাট শেষ হওয়ার পর এলাকাটি আগের চেয়ে সুন্দর ও সবুজ করে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান:
কোরবানি-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগর উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনায় সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “নগরবাসী, সাংবাদিক ও সিটি কর্পোরেশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজধানীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিনের গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমও নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়:
পরিবেশবিদদের মতে, নগরায়নের চাপে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর সবুজ পরিবেশ। এমন বাস্তবতায় কোরবানির পশুর হাট শেষে বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং নাগরিক দায়বদ্ধতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পরিচ্ছন্ন নগর, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক সবুজায়নের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ঢাকা শহরকে একটি বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে। তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠে শুরু হওয়া এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেই লক্ষ্যপূরণের পথেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



