রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মহাখালীতে শ্রমিক বিক্ষোভে স্থবির যান চলাচল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

মহাখালীতে শ্রমিক বিক্ষোভে স্থবির যান চলাচল

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশিল্প কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষ।

সকালের ব্যস্ত সময়ে আকস্মিক এই অবরোধের কারণে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত অচল হয়ে পড়ে। যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় আশপাশের বিকল্প পথেও চাপ বেড়ে যায়। অনেকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিক্ষোভরত শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। একাধিক আর্থিক সুবিধা বকেয়া থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সাতটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে গত মে মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, পূর্বনির্ধারিত ছুটির অর্থ প্রদান, পূর্বের বিল বাবদ বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া এবং চাকরি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্থিক প্রাপ্য পরিশোধ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বেতন-ভাতা ও চাকরি-পরবর্তী সুবিধা শতভাগ পরিশোধেরও দাবি জানান তারা।

শ্রমিকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, পাওনা আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি করা যাবে না। তারা অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক ছাড়েননি এবং দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

শ্রমিক অসন্তোষ ও পাওনা বকেয়া নিয়ে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি আবারও দেশের শ্রমখাতের বিদ্যমান সংকট সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!