প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যমজ কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী নারী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অবহেলা এবং যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রিনা খাতুনের সঙ্গে রাকিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে রিনা গর্ভবতী হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তার ওপর মানসিক চাপ ও পারিবারিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিনার দাবি, কন্যাসন্তান জন্ম নেবে জানতে পারার পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আর গ্রহণ করতে চাননি। একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশু দুটির বয়স দেড় মাসের বেশি হলেও স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য তাদের দেখতে যাননি। এমনকি সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্বও গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে নানা অপমান ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে তাকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। স্বামীর পরিবার মা ও নবজাতক সন্তানদের গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। কেবল কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার কারণে একটি পরিবার ভেঙে যাওয়া সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



