প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
রাজধানী ঢাকার সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন করে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক জট কমাতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব যানবাহন সরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বৈঠকে ঢাকার যান চলাচল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অটোরিকশার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মত দেওয়া হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
নীতিনির্ধারকদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে মতৈক্য তৈরি হয়েছে যে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে বিকল্প ব্যবস্থা, পুনর্বাসন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।
আসন্ন সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের ফলে রাজধানীতে সড়ক শৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, বিপজ্জনক লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকটাই কমে গেছে। ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্তকৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে, ফলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে সমস্যাটি ভিন্ন। অধিকাংশ অটোরিকশার নেই বৈধ নিবন্ধন, নেই সঠিক নম্বরপ্লেট, এমনকি অনেক চালকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেই। ফলে আইন ভঙ্গের ঘটনা ধরা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আগামী মাসে চূড়ান্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর যানজট কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা আরও দৃঢ় হবে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।



