জিএম রাশেদ
প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
জীবনের ১১০টি বছর পার করেছেন তিনি। দেখেছেন ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু এত দীর্ঘ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজও পাননি একটু শান্তি, একটু নিরাপদ আশ্রয়।
রাজধানীর পুরান ধনিয়া এলাকার একটি বস্তির ছোট্ট একটি কক্ষে বসবাস করেন ১১০ বছর বয়সী ইয়ারুন বিবি। চার সন্তানের জননী হলেও আজ তার পাশে আছেন মাত্র দুই ছেলে। দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই কাটছে তার জীবন।
যে ঘরটিতে স্বাভাবিকভাবে দুইজন মানুষের থাকাই কষ্টসাধ্য, সেই একটিমাত্র কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন আটজন সদস্য। বড় ছেলে ইব্রাহিম হোসেন, ছোট ছেলে বাবু, ইব্রাহিমের স্ত্রী, চার সন্তান এবং বৃদ্ধা মা—সবাই মিলে ভাগ করে নিয়েছেন এই ছোট্ট আশ্রয়টুকু।
বাড়িভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আর বর্ষা এলেই বাড়ে দুর্ভোগ। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরে। তখন পরিবারের সবাইকে আশ্রয় নিতে হয় একটি মাত্র চৌকির ওপর।
মুন্সিগঞ্জে জন্ম ইয়ারুন বিবির। পরিবারটির দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক তাদের জমি দখল করে নেওয়ার পর পাকিস্তান আমল থেকেই তারা রাজধানীতে এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও নিজেদের জন্য আর কোনো স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলতে পারেননি।
পরিবারটির আয়ের প্রধান ভরসা বড় ছেলে ইব্রাহিম হোসেন। একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে প্রতিদিন আয় করেন মাত্র ২০০ থেকে আড়াইশো টাকা। অন্যদিকে ছোট ছেলে বাবু একটি দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভেঙে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছে বৃদ্ধ ইব্রাহিমের কাঁধে।
মাতৃভূমির খবর