প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১০:২১ এএম
টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে জেলার দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ওই এলাকায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
জেলার ধরলা নদীতেও পানি বাড়লেও এখনো তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে এবং তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীটির পানিও দ্রুত বাড়ছে। কুড়িগ্রাম সদরে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নুনখাওয়া, হাতিয়া এবং চিলমারী পয়েন্টে পানির উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এখনো নদীটি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবুও ধারাবাহিক পানি বৃদ্ধি সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চিলমারী এলাকায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিস্তা নদীর অবস্থাও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ২৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ এলাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের প্রবল ঢল এবং ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।



